রাত ১০:৪৯, ১৫ই এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

গজারিয়ায় আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘর না পাওয়ায় আত্মহত্যা করল নাজমা

গজারিয়া প্রতিনিধি: মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের প্রধানের চর র্মৌজায় প্রায় দুটি আশ্রয়ন প্রকল্পে দুইশত অসচ্ছল পরিবারকে আশ্রয়ের ব্যবস্থা করে সরকার।

তারই ধারাবাহিকতায় অসহায় গরীব নাজমা বেগম(৬০) স্বামী রজ্জব আলী, গ্রাম সোনার কান্দি আবেদন করে গজারিয়া ইউপি চেয়ারম্যান বরাবর। ঘর পাইয়ে দিবে বলে ৯ নং ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার আব্দুর রশিদ ও কয়েকজন দালালের মাধ্যমে ৫০ হাজার টাকা তুলে দেয় ইউপি চেয়ারম্যান আবু তালেব ভূঁইয়ার নিকট।

ভুক্তভোগী নাজমা নির্দিষ্ট সময়ে ঘর না পাওয়ার কারণে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা , উপজেলা চেয়ারম্যান, ইউপি চেয়ারম্যান,ও সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিকট আবেদন জানালেও তার ভাগ্যে জোটেনি আশ্রয়নের ঘর।

তবে তারই ধারাবাহিকতায় গতকাল আনুমানিক বেলা ১২ ঘটিকার দিকে গজারিয়া ইউপি কার্যালয়ে পৌঁছে ইউপি চেয়ারম্যান আবু তালেব ভূঁইয়ার নিকট ঘর বাবদ ৫০ হাজার টাকা ফেরত অথবা ঘর দিবে কিনা তা জানতে চায় ভুক্তভোগী নাজমা বেগম।

চেয়ারম্যানের নিকট হতে প্রাপ্ত অর্থ ফেরত ও ঘর না পাওয়ার বেদনায় ইউপি কার্যালয়ে আত্মহত্যার হুমকি দিয়ে আসে নাজমা ,তার কিছুক্ষণ পর সে কীটনাশক সেবন করে।

লোকজন তার ছেলে নুর নবী কে অবগত করলে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আরিফুল ইসলাম প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় প্রেরণ করে।
এবং সেখানেই তার মৃত্যু হয়।

সরজমিনে গিয়ে জানা যায় যে আশ্রয়নের ঘর ও জায়গা বুঝিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে যথাযথ কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব থাকলেও তা ব্যবহার হয় নাগেরচর গ্রামের মুকবিল হোসেন ও রতন এর তদারকিতে।

আরো জানা যায় যে ৪৩ নং ঘরটি নাজমা কে দিবে বলে টাকা হাতিয়ে নেয় এই চক্রটি। টেংগারচর ইউনিয়নে মিরপুর আশ্রায়ন প্রকল্পে বসবাসকারী হকার শহীদ গজারিয়া ইউনিয়নের প্রধানের চর মৌজায় এই আশ্রয়নের ৪৩ নং ঘরটি হকার শহীদ ব্যবহার করত। একই ব্যক্তি দুই ইউনিয়নে দুইটি ঘর ব্যবহারের উপর কোন আইনি অধিকার আছে কিনা তা আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

এ ব্যাপারে গজারিয়া উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা জিয়াউল ইসলাম জানান এই আশ্রায়ন প্রকল্পে একই ব্যক্তি দুটি আশ্রয়নের দুইটি ঘর ব্যবহারের আইনি কোনো সুযোগ নেই।

এ ব্যাপারে ইউপি চেয়ারম্যান আবু তালেব ও ৯ নং ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য আবদুর রশিদের সাথে যোগাযোগ করলে জানা যায় যে এ ঘটনার সাথে তারা কোন প্রকার জড়িত নেই এবং আগামী নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার লক্ষ্যে প্রতিপক্ষ এ ধরনের মিথ্যা সংবাদ প্রচার করেছে বলে মতামত প্রকাশ করে।

======