রাত ৮:৫৪, ২০শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

প্রত্যাহার হলো প্রশাসক, প্রদর্শক সমিতির কমিটি পুর্নবহাল

ডেস্ক রিপোর্ট : অবশেষে প্রত্যাহার করা হলো প্রদর্শক সমিতি থেকে ‘প্রশাসক’ আব্দুল আউয়ালকে (উপসচিব বাণিজ্য মন্ত্রণলায়)। প্রদর্শক সমিতির আপিল শুনানী নিষ্পত্তি করে গত ৫ অক্টোবর সোমবার বাণিজ্যিক মন্ত্রণালয়ের উপসচিব সৈয়দা নাহিদা হাবিব সাক্ষরিত এক আদেশে এ তথ্য জানানো হয়। এর ফলে সমিতির সাধারণ কার্যক্রম চালাতে বর্তমান নেতৃবৃন্দের আর কোনো বাধা রইলো না। শুনানীতে প্রদর্শক সমিতির নির্বাচনে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করা সুদীপ্ত কুমার দাস, সভাপতি কাজী শোয়েব রশীদ এবং সহ সাধারণ সম্পাদক শরফুদ্দিন এলাহী সম্রাট উপস্থিত ছিলেন।

মুঠোফোনে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সহ সাধারণ সম্পাদক শরফুদ্দিন এলাহী সম্রাট। এছাড়াও আদেশনামার একটি কপি এই প্রতিবেদকের হাতেও এসেছে। সেখানে বলা হয়েছে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির সভাপতি কাজী শোয়েব রশীদ কর্তৃক দায়েরকৃত গত ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০ তারিখের একটি আপীল আবেদনের বিষয়ে ৪ অক্টোবর ২০২০ তারিখে বাণিজ্যিক মন্ত্রণালয়ের সচিব শুনানী গ্রহণ করেন। আপীল শুনানী ও দাখিলকৃত কাগজপত্রাদি পর্যালোচনা করে আপীল আবেদন মঞ্জুর করা হয় এবং নিয়োগপ্রাপ্ত প্রশাসক প্রত্যাহার করা হয়।’

এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী, তথ্যমন্ত্রী এবং বাণিজ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে সমিতির প্রধান উপদেষ্টা সুদীপ্ত কুমার দাস তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, আমাদের দুই ধরনের যুদ্ধ করতে হয়েছে প্রথমত সিনেমা হল বাঁচাতে সরকারের কাছে ঋণসুবিধা আদায় যেটি ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রী বাস্তবায়নের আদেশ দিয়েছেন। তথ্যমন্ত্রী মহোদয় নিজেও এ নিয়ে বেশ আগ্রহী ছিলেন। বিভিন্ন সময় তার গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শে সমিতি উপকৃত হয়েছে। তার প্রতিও কৃতজ্ঞ। অপরটি এক বছর ধরে আমাদের ওপর প্রশাসক নিয়োগ করে এক ধরণের হীনমন্য পরিবেশের মধ্যে ফেলে দিয়েছিলো আমাদের। অবশেষে প্রশাসককে প্রত্যাহারের সময়োচিত সিদ্ধান্ত আরও সুসংহত হয়ে কাজের অনুপ্রেরণা যোগাবে।

সমিতিরি সভাপতি কাজী শোয়েব রশীদ বলেন, বেশি কিছু বলার নেই। সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করবো। এ রায়টি সেটারই বাস্তবায়ন।

জানা গেছে, গত বছরের ২০ অক্টোবর বর্তমান কমিটি ক্ষমতাপ্রাপ্ত হয়। কারসাজি করে ক্ষমতাপ্রাপ্ত হয়েছেন এমন অভিযোগে গত বছরে এ নিয়ে একটি অভিযোগ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে জমা পড়ে। সে অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় প্রদর্শক সমিতির নির্বাচন সংক্রান্ত কার্যক্রম খতিয়ে নতুন একটি নির্বাচন দিতে প্রশাসক নিয়োগ দেয়।

পরবর্তীতে করোনা প্রকোপের কারণে প্রদর্শক সমিতির বর্তমান কমিটি এবং প্রযোজকদের সর্বসম্মতিতে চলতি বছরের ১৮ মার্চ থেকে সারা বাংলাদেশে হল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে প্রসাশক নিজেও একটি আদেশ জারি করেন। তবে প্রদর্শক সমিতির দাবি তারা সে চিঠি পাননি। এরমধ্যে ১৯ মার্চ প্রশাসক নিয়োগের বিষয়টি স্থগিতাদেশ দিতে প্রদর্শক সমিতি একটি আবেদন করেন। সে পরিপ্রেক্ষিতে গত ২২ মার্চ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব সৈয়দা নাহিদা হাবিবা সাক্ষরিত পত্রে করোনা প্রকোপের কারণে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানসমূহে পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত সব ধরনের নির্বাচন স্থগিতাদেশ জারি করা হয়। তথাপিও নিয়োগপ্রাপ্ত প্রশাসক প্রকৃত হল মালিক ছাড়াই দু-একজন হল মালিক ও বুকিং এজেন্টদের নিয়ে গোপনে একটি বৈঠক করেন যা ১৮ মে’র গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। যদিও প্রশাসকের দাবি তিনি জানতেন এরা হল বুকিং এজেন্ট।