সকাল ১১:৩০, ২৩শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

চলচ্চিত্রের স্ট্যান্ডবাজি বুঝে ফেলেছে হিরো আলম!

আকাশ নিবির : করোনা ক্রান্তিকালে টানা সাত মাস বন্ধ প্রায় দেড়শ সিনেমা হল। যেখানে হতাশার মধ্যে পরতে দেখা যায় হল মালিকদের। যদিও নানা রকম শর্ত সাপেক্ষে এ মাসের ১৬ অক্টোবর বন্ধ থাকা হলগুলো খুলে দেয়া হয়। কিন্তু করোনা পরিস্থিতি আর নানা সমস্যার জন্য প্রযোজকরা বড় ধরনের ছবি মুক্তি দিতে হিমশিম খান। সেখানে প্রথমেই সুযোগ নেন কম বাজেট আর বাজে মেকিংয়ে’র ছবি “সাহসী হিরো আলম” নামক একটি ছবি। যার মূল ভূমিকায় দেখা মিলে সোস্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল আলম ওরফে হিরো আলম।

মুক্তির প্রথম দিনে তাকে দেখা যায় একটু পুরনো পেরাডো গাড়ী করে শো ডাউন করতে। যেখানে তাকে দেখে নানান জনকে প্রকাশ্যে হাসতে দেখা যায়। যদিও তিনি হাসির পাত্র হয়েও নিলজ্জের মতো নিজের প্রচারণা চালিয়ে যেতে। যেটা কিনা কম বাজেটের নানা ছবিতে দেখা গেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পরিচালক জানান, ‘ভাইরাল আলম তো স্ট্যান্ডবাজি শিখে ফেলেছে। কারণ এ রকম প্রায় ছবিতে দেখা যেত নতুন হিরো হিরোইনদের তামাশা। ৭-১০ লক্ষ টাকার মধ্যে সিনেমা তৈরী করে মুক্তির দিন গাড়ী ভাড়া করে তাই করতে। সেখানে তার দোষ কোথায়! তার ছবি দেখে কোন সুস্থ্য মানুষ হলের ভিতর দুই ঘন্টার যদি থাকতে পারে তাহলে তো কোন কথাই নাই। যে সিনেমার না আছে কোন মেকিং আর না আছে কোন গল্প। সেখানে দেখা যাচ্ছে আবার লোক ভাড়া করে সিনেমা দেখানোর পায়তারা! যেখানে স্পর্ট দেখা মিলছে ৫০-৬০ বছরের বয়সে তিনজন রাস্তার ভিক্ষুককে টাকায় ভাড়া করে হলের ভিতর বসিয়ে রেখে ছবি তুলে সেটি আবার জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় ছাপাতে দেখা যায়। যা বাংলা সিনেমার ইতিহাসে বিরল একটি ঘটনা। যে সিনেমা নিয়ে এতো কথা কোটি ভক্তের মাঝে তাহলে কিভাবে এই সিনেমা বাংলাদেশ সেন্সরশীপ পায়? নাকি সবাই চলচ্চিত্র নিয়ে সবাই মজা নিচ্ছে? বিষয়টি আসলে বোঝা দায়।

তবে পরিচালক সমিতির ভাষ্যমতে, বাজে মেকিং আর সস্থা ছবি মুক্তির ব্যাপারে এই ছবির পরিচালক মুকুল নেত্রবাদীকে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, ‘আমার সংসার চালাতে হয়। আর এই কাজ ছাড়া কোন কাজ আমার জানা নেই। গত বছর আমার সর্বোচ্চ ছবি (৫টি) মুক্তি পেয়েছে। যা অন্যকোন পরিচালকের নয়। আর যদি সিনেমার কাজ ছেড়ে দেই তাহলে তো আর কেউ আমার সংসার চালাবে না!’ তার এই পন্থায় পরিস্কার বোঝা যায় যে বর্তমান চলচ্চিত্র শুধুমাত্র পেটের তাগিদে চলছে। যার কোন অভিভাবক নেই বললেই চলে। এমন শিরোনামে অনেক সোস্যাল মিডিয়ায় নায়ক-নায়িকাদের প্রতিবাদ মূলক পোস্ট দেখা যায়। তাহলে কেন এরকম হচ্ছে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের গড়া এই চলচ্চিত্র অঙ্গণে তার উত্তর হয়তো কারও জানা নেই। নাকি জানা আছে শুধু জেলাস আর বাংলাদেশের জন্মিয়ে ’৭১ এর হায়নাদের মতো এই চলচ্চিত্র ধ্বংস করার।