সকাল ১০:৫২, ২৩শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

“কর্তন” নির্মান করেছি সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকেই- নাজমুল হুদা নাজিম

বিনোদন প্রতিবেদক : মিডিয়া থেকে দূরে না থকলেও বহুদিন ধরে নাটক নির্মাণ থেকে দূরে সরে ছিলেন গুনী পরিচালক নাজমুল হুদা নাজিম। ব্যাস্ত ছিলেন বিভিন্ন ডকুমেন্টারি ও বড় বড় গ্রুপ অব কোম্পানির তথ্যচিত্র নির্মাণ নিয়ে।
বহুবছর পরে হঠাৎ করেই তিনি চলমান ঘটনা অবলম্বনে একটি শর্ট ফিল্ম নির্মান করেছেন। “কর্তন” নামের এই শর্ট ফিল্মে তিনি তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন বর্তমান বাংলাদেশের সবচেয়ে আলোচনার বিষয়বস্তু ধর্ষনের ভয়াবহতা।

নাটক নির্মাণ থেকে দূরে আছেন কেনো? আমাদের প্রতিনিধির এমন প্রশ্নে পরিচালক নাজিম বলেন “আসলে সবার মতামতের সাথে আমার মতামত মিলবে না, আমি দূরে আছি কারন বাজেট এবং চ্যানেলের চাহিদার সমন্বয় ঘটাতে আমি ব্যার্থ তাই। একটা একক নাটক নির্মাণ করতে গেলে প্রডিউসার দের লাখ টাকার উপরে বাজেট দিতে চাচ্ছেনা, চ্যানেলের ডিমান্ড থাকে স্টার আর্টিস্ট, যদি আমি দুজন স্টার আর্টিস্ট কাস্টিং দেই সেই ক্ষেত্রে একলাখ টাকা তাদের জন্য বরাদ্দ রাখতে হয়, বাকী পঞ্চাশ হাজার টাকা দিয়ে অন্যান্য আর্টিস্ট পেমেন্ট, টেকনিক্যাল সাপোর্ট, স্পট ভাড়া, ট্রান্সপোর্ট, খাওয়া দাওয়া সহ যাবতীয় খরচ চালানো খুবই কস্টকর হয়ে যায়। বলতে পারেন আমার পক্ষে এটা অসম্ভব ব্যাপার। তারপরেও যদি কস্ট করে সম্ভব করি তাহলে দেখা যাবে নির্মাণ শেষ প্রডিউসার এর আসল টাকাই তিনি ফেরত পাচ্ছেনা। চ্যানেল টাকা দিতে চায়না সঠিকভাবে, এমন নানান জটিলতার কারনে প্রডিউসার লস করছেন। আমি আমার কারনে কাউকে লস করাতে চাইনা বলেই নাটক নির্মাণ থেকে দূরে সরে আছি।”

এর থেকে পরিত্রাণের কি কোন উপায় নেই? প্রতিনিধির এমন প্রশ্নের জবাবে পরিচালক নাজমুল বলেন, সমস্যা যেখানে আছে সমাধানও সেখানে আছে। তবে সবার আগে যেটা বন্ধ করতে হবে সেটা হলো চ্যানেলদের স্টার ডিমান্ড। গল্পে স্টার থাকতেই হবে এটা কেমন লজিক আমি ঠিক বুঝিনা, আমি বুঝি আমার গল্পের চরিত্র ফুটিয়ে তুলতে পেরেছি কিনা, হউক সে নতুন বা পুরাতন আর্টিস্ট, সেটা কোন ফ্যাক্টর না। আজ যারা স্টার তারাও নতুন ছিলো কোন একদিন। এখন যদি আমরা নতুনদের অবহেলা করি তাহলে মিডিয়া কোন একদিন স্টার শুণ্য হয়ে যাবে।

এর জন্যই বুঝি “কর্তন” এ প্রায় সবাইকেই নতুন নিয়েছেন? এই প্রশ্নের জবাবে নাজমুল একগাল হাসি দিয়ে বলেন, “আসলে একেবারেই যে নতুন তা নয়, ওনারা কম বেশি সবাই ই কাজ করেন। আমি শুধু আমার চরিত্রের প্রয়োজনে যাকে যাকে দরকার মনে করেছি তাকে কাস্টিং দিয়েছি।”

সত্যি বলতে টিজি ফিল্মস এর সাথে বহুদিন ধরেই আমার আলাপ চলছিলো, টিজি ফিল্মস ও চায় দেশে নতুন আর্টিস্ট তৈরি হউক, যাতে করে কোন একসময় মিডিয়া স্টার শুণ্য না হয়ে পড়ে। এই দিক থেকে টিজি ফিল্মস আর আমার মতের মিল প্রায় একই বলতে পারেন।

অনেক দিন ধরেই টিজি ফিল্মস এর সাথে কাজ করবো করবো করেও করা হচ্ছেনা, হঠাৎ করেই বর্তমানের একটি প্রেক্ষাপট মাথায় চলে এলো, যা আমি টিজি ফিল্মসের সাথে শেয়ার করলাম। বিষয়টা তারও ভালো লাগলো, ব্যাস হঠাৎ করেই সিদ্ধান্ত নিয়ে নিলাম এই বিষয় নিয়েই কাজ করবো। সেই মতে সোহাগ বিশ্বাসকে গল্প লিখতে দিলে তিনি খুব সুন্দর ভাবে আমায় গল্পটা প্রেজেন্ট করেন। অত:পর কাজে নেমে পড়েছি।

আমি কৃতজ্ঞ “কর্তন” এর প্রতিটি টিম মেম্বারের প্রতি। তাদের আন্তরিক সহযোগিতা ছিলো বলেই আমি কাজটি নামাতে পেরেছি।
বিশেষভাবে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি প্রযোজক মাহমুদা মাহি ও টিজি ফিল্মস এর প্রতি, এই প্রতিষ্ঠান যদি আমার পাশে না থাকতো তাহলে এই মুহুর্তে “কর্তন” শিরনামের এই কাজটি করা আমার পক্ষে সম্ভব ছিলনা। অনন্যা অনু নিবেদিত “কর্তন” শর্টফিল্মটি বর্তমান সামাজিক অবক্ষয়ের একটি খন্ড চিত্র মাত্র। আর এতে যারা অভিনয় করেছেন, তারা প্রত্যেকেই যার যার জায়গায় খুব ভালো করেছেন। আমার বিশ্বাস “কর্তন” দর্শকদের ভালো লাগবে।

বর্তমানে “কর্তন” এর সাবটাইটেল এর কাজ চলছে, দেশ-বিদেশের বিভিন্ন ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল অনুষ্ঠানে “কর্তন” প্রদর্শন করার ইচ্ছে আছে আমার। পাশাপাশি টিজি ফিল্মসের অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেল টিজি আনন্দ টিভিতেও থাকবে এই শর্ট ফিল্মটি। ইতিমধ্যে ঐ চ্যানেলে দুটো টিজার অবমুক্ত করা হয়েছে, এবং তা প্রশংসাও কুড়াচ্ছে।

হ্যা, খুব শিগ্র টিজি ফিল্মসের সাথে আরো নতুন নতুন কাজ করা হবে বলে আমি আশাবাদী।’
উল্লেখ্য, ধর্ষনের প্রতিবাদ স্বরূপ পরিচালক নাজমুল হুদা নাজিম নির্মান করেছেন শর্ট ফিল্ম “কর্তন”। এতে তুলে ধরা হয়েছে ধর্ষনের ভয়াবহতা ও সামাজিক অবক্ষয়, একটি ধর্ষন একটি পরিবার বা একটি সমাজকে কতোটা কূলষিত করতে পারে তার বাস্তব চিত্র দেখা যাবে “কর্তন” নামের এই শর্ট ফিল্মে।

মাহমুদা মাহি প্রযোজিত, অনন্যা অনু নিবেদিত, টিজি ফিল্মসের ব্যানারে নির্মিত নাজমুল হুদা নাজিম এর “কর্তন” এ যারা অভিনয় করেছেন তারা হলো – সোহাগ বিশ্বাস, তামান্না সরকার, ফিরোজ খান, স্বপ্নীল রনো, খায়রুল আলম টিপু, সেলজুক, আরএফ রোমিও, বিলটু শামীম, মোতালেব হোসেন, এবিডি তুহিন, শান্তা পাল, বাদশা সরকার, সহ অনেকে।
চিত্রগ্রহন করেছেন মোহাম্মদ শরিফ, এবং “কর্তন” চিত্রায়িত হয়েছে ঢাকা ও তার আশে পাশের লোকেশনে।