সকাল ১০:৪৮, ২৫শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

হিরো আলমকে দেখতে হলের বাইরে ভিড়

বিনোদন ডেস্ক : পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী ১৬ অক্টোবর থেকে সিনেমা হলগুলো স্বাস্থ্যবিধি মেনে খুলেছে। তবে হল চালুর ঘোষণা আসতেই সিনেমা নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন সমালোচনা। সেটি হলো হল খুলেছে বিতর্কিত সোশাল মিডিয়া ব্যক্তিত্ব হিরো আলমের সিনেমা দিয়ে।

দীর্ঘ সাত মাস পর হল যখন চালু হলো তখন দর্শক না পাওয়ার ঝুঁকিতে সিনেমা মুক্তি দেয়া থেকে বিরত রয়েছেন বড় বাজেটের প্রযোজকরা। সেই সুযোগটাই কাজে লাগালেন আলম। তিনি মুক্তি দিয়েছেন তার অভিনীত ও প্রযোজিত ‘সাহসী হিরো আলম’ ছবিটি। হিরোগিরি’র আবেগে সোশাল মিডিয়ায় তার ফ্যানদের তিনি পাশে পেয়েছেন।

তবে হলের চিত্রটা ভিন্ন। কোথাও নেই দর্শক। মানুষজন ভিড় করছেন ছবির প্রচারে হলে হলে পরিদর্শন করা হিরো আলম ও তার নায়িকাদের দেখতে।

প্রায় ৫০টির মতো হলে মুক্তি পেয়েছে ‘সাহসী হিরো আলম’ ছবিটি। এটি পরিচালনা করেছেন মুকুল নেত্রবাদী। ছবির প্রচারে পরিচালক, নায়িকাদের নিয়ে প্রাডো গাড়ি নিয়ে ঘুরছেন হিরো আলম। ছুটছেন এক প্রেক্ষাগৃহ থেকে আরেক প্রেক্ষাগৃহে। তাকে ঘিরে প্রেক্ষাগৃহের বাইরে দেখা যাচ্ছে উৎসুক জনতার ভিড়। বেশ কিছু ছবি ও ভিডিও এরইমধ্যে ভাইরাল হয়েছে ফেসবুকে।

কিন্তু ছবির ব্যবসার অবস্থা খুবই করুণ। প্রেক্ষাগৃহের আসন ফাঁকা। নেই কোনো দর্শক। হাতে গোনা কয়েকজন টিকিট কাটলেও কেউই ছবি শেষ করছেন না বলে বেশ কিছু হল সূত্রে খবর পাওয়া গেছে। তাদের অভিযোগ, ছবিতেই গল্প, সংলাপ, গান, অভিনয় খুবই নিম্ন মানের।

এই সিনেমাটি নিয়ে চলচ্চিত্রপাড়াসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিরক্তিও দেখা যাচ্ছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন অগোছালো গল্পের মানহীন নির্মাণের এই ছবিটি কি করে সেন্সরে ছাড়পত্র পেয়েছে?

বগুড়ার প্রত্যন্ত এরুলিয়া গ্রামের ছেলে আশরাফুল আলম সাঈদ একসময় সিডি বিক্রি করতেন। সিডি যখন চলছিল না, তখন তিনি কেবল ব্যবসা শুরু করেন। তার পরিচিতি হয় ‘ডিস আলম’ হিসেবে। কেবল সংযোগের ব্যবসার সুবাদে গানের ভিডিও তৈরি করতে শুরু করেন তিনি। ইউটিউবে প্রায় ৫০০ মিউজিক ভিডিও প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ গণমাধ্যমে আলোচনায় আসেন হিরো আলম।

ইউটিউবে হিরো আলমের এসব ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে তার ভিডিও নিয়ে কৌতুক শুরু হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোয় তার ভিডিও নিয়ে শুরু হয় ট্রল। রাতারাতি আলোচনায় চলে আসনে তিনি। শুধু বাংলাদেশ নয়, ভারত-পাকিস্তানেও তার নাম ছড়িয়ে যায় ট্রলের পাত্র হিসেবে।

তবে পুরো বিষয়টাকে ইতিবাচক হিসেবে নিয়েছেন হিরো আলম। তিনি তার পরিচিতি কাজে লাগিয়ে শোবিজে কাজ করা শুরু করেন। নাম লেখান সিনেমা প্রযোজনা ও অভিনয়ে।

গত নির্বাচনে নিজ এলাকা থেকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীও হয়েছিলেন আলম। সেখানে তার ভরাডুবি হয়।