সকাল ১১:৪৮, ২৪শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

কোয়ারেন্টাইনের ধার ধারলেন না সাকিব

মহামারি করোনাভাইরাসে বিপর্যস্ত বিশ্ব। বাংলাদেশেও পড়েছে এর প্রভাব। তাই এই সময়ে বিদেশ থেকে ফেরা সবাইকে কোয়ারেন্টাইন বাধ্যতামূলক করেছে সরকার। তবে কোয়ারেন্টাইনের ধার ধারলেন না সদ্য আইসিসি নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্ত হওয়া বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। যুক্তরাষ্ট্র থেকে বৃহস্পতিবার রাত দুইটায় দেশে পৌঁছেছেন বাহাতি এ অলরাউন্ডার। ফিরেই পরের দিন শুক্রবার সকালে গুলশানে চলে যান একটি সুপারশপ উদ্বোধন করতে।

এদিন প্রধান অতিথি হয়ে সুপারশপ ‘জয়’–এর উদ্বোধন করেন সাকিব আল হাসান। এ সময় উৎসুক জনতা সামলাতে ভীষণ হিমশিম খেতে হয় নিরাপত্তাকর্মীদের। মানুষের ভিড় ঠেলে ফিতা কেটে উদ্বোধন করেন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দোকানটি। স্বাস্থ্যবিধি তোয়াক্কা না করেই আয়োজন করা হয় এ অনুষ্ঠানের।

সাকিব নিশ্চয়ই যুক্তরাষ্ট্র থেকে নেগেটিভ সনদ নিয়েই প্লেনে উঠেছেন। দেশে ফিরেই তার হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার কথা।

গত সেপ্টেম্বরে যখন যুক্তরাষ্ট্র থেকে তিনি ফিরেছিলেন, তখনো নিয়মটি তিনি ভালোভাবেই মেনেছিলেন। দেশে ফিরে আবার পরীক্ষা করিয়ে কোভিড নেগেটিভ হয়ে চলে গিয়েছিলেন বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে (বিকেএসপি)। বিকেএসপিতে অনেকটা সঙ্গনিরোধ থেকেই নিয়েছিলেন প্রস্তুতি।

গত মার্চে করোনার প্রাদুর্ভাব ছড়িয়ে পড়ার পর যখন বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে গেলেন, তখন বিমানবন্দর থেকে সরাসরি বাসায় যেতে পারেননি। যুক্তরাষ্ট্রের একটি হোটেল দুই সপ্তাহের কঠিন কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হয়েছে তাকে।

মার্চ থেকেই পরিবারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে ছিলেন সাকিব।মাঝে সেপ্টেম্বরে দেশে ফিরলেও আবারো স্ত্রী-সন্তানের কাছে ফিরে গিয়েছিলেন তিনি।পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো শেষে শুক্রবার (৬ নভেম্বর) যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফিরেছেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান। আইসিসির নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্ত হওয়ায় এখন তার আর ক্রিকেটীয় কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে বাধা নেই। পুরোপুরি ক্রিকেটে যোগ দেয়ার আগে আজ (শনিবার) করোনা শনাক্তকরণ পরীক্ষা করাবেন তিনি।

সাকিবের মাস্ক না পরা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও বেশকিছু মন্তব্য এসেছে।

রাকিবুল হাসান নামে একজন লিখেছেন, বিদেশ থেকে কোভিড নেগেটিভ সার্টিফিকেট নিয়ে এলে কোয়ারেন্টিন বাধ্যতামূলক না। এটাই আমাদের রাষ্ট্রীয় নীতিমালা। সেই বিবেচনায় সমস্যা নেই। কিন্তু অনুষ্ঠানের গিজগিজ করা মানুষের যা অবস্থা শুনলাম, তাকে সাকিবের উপস্থিতি কতটা ঠিক সে প্রশ্ন ওঠে।

একুশ তফাদার নামে একজন লিখেছেন, এসব স্বাস্থ্যবিধি সবার জন্য না। এই দেশে কোনো নিয়ম নীতিই সবার জন্য না। বেসরকারি টিভি চ্যানেল এনটিভির ক্রীড়া সাংবাদিক সুব্রত দেব লিখেছেন, সাকিব একটা সুপার শপ উদ্বোধন করতে গেলেন গুলশানে। এর থেকে এলাকার মুদি দোকানের উদ্বোধন আরো গোছালো হয়। মাথায় ঢুকছে না দেশে এসেই কেন সাকিব এই ধরণের ঝুঁকিপূর্ণ একটা অনুষ্ঠানে গেলেন।

এমন অনেক মন্তব্য এসেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। সরকারের দেয়া স্বাস্থ্যবিধির বিষয়টি সাকিবেরও নিশ্চয় অজানা নয়। অনুষ্ঠানস্থল দ্রুত ত্যাগ করলেও কথা উঠেছে, বিদেশ ফেরত জাতীয় দলের কোচিং স্টাফদের সবাইকে রাখা হয়েছিল কোয়ারেন্টিনে। বেশ কয়েকবার করোনা পরীক্ষাও করানো হয়েছে।তাহলে সাকিব কেন না?