দুপুর ১২:০৩, ২৫শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

ঘূর্ণিঝড় আম্ফান-বন্যার ক্ষতি পোষাতে সরকারের ৫৯০৫ কোটি টাকার প্রকল্প

ডেস্ক রিপোর্ট: সুপার ঘূর্ণিঝড় আম্ফান, বন্যা ও অতিবৃষ্টির ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ৫ হাজার ৯০৫ কোটি টাকা খরচে একটি প্রকল্প নিতে যাচ্ছে সরকার।

আগামীকাল মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য উত্থাপন করার কথা রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের অক্টোবর থেকে ২০২৩ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। এটি বাস্তবায়ন করবে স্থানীয় সরকার বিভাগ/স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি)।

করোনাভাইরাস ছাড়াও ২০১৯ ও ২০২০ সাল প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বাংলাদেশ। গত বছরের মে’তে আঘাত হানা সুপার ঘূর্ণিঝড় আম্ফানে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চল ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বর্তমান শতাব্দীর দীর্ঘমেয়াদি বন্যার পাশাপাশি অতিবৃষ্টিও এবার দেখেছে বাংলাদেশ।

এসব প্রাকৃতিক দুর্যোগে রাস্তাঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট, বাড়িঘর, স্কুল-কলেজ, বিভিন্ন স্থাপনা, ফসলসহ ইত্যাদির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।

এ প্রকল্পটি আম্ফানে ক্ষতিগ্রস্ত খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও ঢাকা বিভাগের ১৪টি জেলার ৬৯টি উপজেলা, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত রংপুর, রাজশাহী, খুলনা, ঢাকা, ময়মনসিংহ, সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের ২৮টি জেলার ১৮২টি উপজেলা এবং অতিবর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত রাজশাহী, খুলনা, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও চট্টগ্রাম বিভাগের ২২টি জেলার ১৩৯টি উপজেলায় বাস্তবায়িত হবে।

এ প্রকল্পের উদ্দেশ্য হচ্ছে- ঘূর্ণিঝড় আম্ফান ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক এবং ব্রিজ-কালভার্ট পুনর্বাসনের মাধ্যমে পল্লী সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা সংরক্ষণ, টেকসই সড়ক রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে পরিবহন ব্যয় ও সময় সাশ্রয় করা। এছাড়া বিভিন্ন পণ্যাদির বাজারজাত ব্যবস্থা সহজ করা, সড়ক অবকাঠামো মেরামত ও পুনর্বাসনের মাধ্যমে কৃষি/অকৃষি খাতে প্রত্যক্ষ/পরোক্ষভাবে গ্রামীণ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা এবং গ্রামীণ অর্থনীতি সচল রাখা।

এসব উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে এ প্রকল্পের আওতায় ২ হাজার ৩৮৮ দশমিক ৩৪ কিলোমিটার উপজেলা সড়ক পুনর্বাসন করা, ২ হাজার ২৭৪ দশমিক ৬৮ কিলোমিটার ইউনিয়ন সড়ক পুনর্বাসন করা, ১ হাজার ৫৩৪ দশমিক ৯৪ কিলোমিটার গ্রাম সড়ক পুনর্বাসন করা, ৭৮ কিলোমিটার আরসিসি সড়ক পুনর্বাসন করা, ৪ হাজার ৬৩১ দশমিক ৮৫ মিটার (২৬৮টি) ব্রিজ পুনর্বাসন/পুনর্নিমাণ করা, ৬৯২ দশমিক ৩৭ মিটার (২৩৯টি) কালভার্ট পুনর্বাসন/ পুননির্মাণ করা এবং ৩২৮ কিলোমিটার বৃক্ষ রোপণ/ভেটিবার করা হবে।

এ বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশন জানায়, ঘূর্ণিঝড় আম্ফান, বন্যা ও অতিবর্ষণে ক্ষতিগ্রস্তদের নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিসহ সার্বিক দারিদ্র্য বিমোচনে প্রকল্পটি ইতিবাচক অবদান রাখবে।