দুপুর ১২:১০, ২৪শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

রিসোর্ট ভাড়া দিতে না পারায় রাঙ্গনিয়া একদিন আটকে থাকে ‘ছায়াবৃক্ষ’ ইউনিট

বিনোদন প্রতিবেদক : চা বাগানের শ্রমিকদের সুখ, দুঃখ, হাসি-কান্না ও দিনযাপন নিয়ে নির্মিত হচ্ছে সরকারি অনুদানের ছবি ‘ছায়াবৃক্ষ’। ২০১৯-২০ অর্থবছরে পূর্ণদৈর্ঘ্য বিভাগে ৫০ লাখ টাকা অনুদান পায় ছবিটি। তানভীর আহমেদের চিত্রনাট্যে এটি পরিচালনা করছেন বন্ধন বিশ্বাস। এ ছবি দিয়ে প্রথমবার জুটি বাঁধেন চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাস ও চিত্রনায়ক নিরব হোসেন। চলতি মাসের ৬ নভেম্বর চট্টগ্রামের রাঙ্গনিয়া কোদালা চা বাগানে শুরু হয় ছবির দৃশ্যধারণ। প্রথম লটের শুটিং শেষ করে নিরব-অপু ঢাকায় ফিরেছেন সোমবার। মঙ্গলবার ‘ছায়াবৃক্ষ’ ইউনিট ঢাকা ফেরার কথা থাকলেও তারা ফিরেন বুধবার সকালে। শুটিং ছাড়া বাড়তি একদিন থাকতে হয় রাঙ্গনিয়া। কারণ, রিসোর্ট ভাড়ার টাকা না দিতে পারায় টেকনিশিয়ানদের একদিন আটকিয়ে রাখেন রিসোর্টের মালিক। পরে টাকা দিয়ে বুধবার সকালে ঢাকা ফিরেন তারা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ‘ছায়াবৃক্ষ’ সংশ্লিষ্ট পরিচালকের ঘনিষ্ট দুই জন বলেন, ছবিটি নিয়ে সবাই খুব আশাবাদী ছিলাম তবে যেভাবে এর নির্মাণ কাজ হয়েছে তাতে বড় জোর টেলিফিল্ম হবে। অথচ শিল্পী থেকে শুরু করে টেকনিশিয়ান সবাই না খেয়ে দিন রাত সর্বোচ্চ শ্রম দিয়েছে কাজটি ভালো ভাবে শেষ করার জন্য। পরিচালকের কাজে আরও মনোযোগী হওয়া দরকার ছিল। এটি সরকারি ছবি হলেও প্রযোজক নিজের মতো করে টাকা পকেটে নেওয়ার জন্য সব ধরনের চেষ্টা করছেন। ছবির কাজ শেষের দিকে হলেও টেকনিশিয়ান কেউ এখনও টাকা পায়নি।

তারা আরও বলেন, আমাদের একদিন রাস্তায় রাত যাপন করতে হয়েছিল। অগোছালো একটি প্রডাকশন ‘ছায়াবৃক্ষ’। দুপুরে খাবার আসে সন্ধ্যায় রাতের খাবার আসে রাত তিনটায়। যেদিন আমাদের ঢাকা ফেরার কথা ছিল সেদিন ফিরতে পারিনি কারণ, রিসোর্টের মালিক ভাড়া না পাওয়ায় দুই পাশ দিয়ে গেট বন্ধ করে দেয়। একদিন পর প্রযোজক অনুপ কুমার বড়ুয়া টাকা পাঠালে আমরা ঢাকায় আসি বুধবার সকালে। ছবির জন্য ৫০ লক্ষ টাকা অনুদান পেলেও সর্বোচ্চ ৩০ লক্ষ টাকা ব্যয় হতে পারে। ভালো একটি গল্প নির্বাচন করা হলেও পরিচালক ও প্রযোজকের খামখেয়ালীর কারণে কাজটি যেভাবে প্রত্যাশা করেছিলাম সে ভাবে কিছুই হচ্ছে না। তাদের জন্য আজ বাংলা সিনেমার বেহাল দশা। এরইমধ্যে ছবির কাজ ৬৫ শতাংশ শেষ হয়েছে। শেষ অংশের শুটিংয়ের পরিকল্পনা চলছে। এতে আরও অভিনয় করছেন শতাব্দী ওয়াদুদ, ইকবাল, সুমিত, কাজী নওশাবা, সাহেলা আক্তার, জাহিদ, শিখা মৌ প্রমুখ।